ক্রুড প্রোটিন টেস্ট বা CP Test করার পদ্ধতি
ক্রুড প্রোটিন টেস্ট বা CP Test করার পদ্ধতি

প্রিয় পাঠক, ফিড মিলের কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাবরেটরিতে অত্যন্ত একটি গুরুত্বপুর্ণ টেস্ট হচ্ছে – ক্রুড প্রোটিন টেস্ট বা CP Test। তো চলুন প্রথমেই জেনে নিই ক্রুড প্রোটিন কি?

মূলত ক্রুড প্রোটিন হচ্ছে এক কথায় অপরিশোধিত প্রোটিন। একে টোটাল প্রোটিন ও বলা হয়ে থাকে। সাধারণত, প্রোটিন এবং নন-প্রোটিন নাইট্রোজেনাস সাবস্ট্যান্স (NPN মানে ইউরিয়া, বাই-ইউরেটস, এমোনিয়া ইত্যাদি নাইট্রোজেন সোর্স, যেগুলা মূলত আসল প্রোটিন নয়) থেকে আগত সকল নাইট্রোজেন কন্টেন্ট-ই হচ্ছে ক্রুড প্রোটিন। ক্রুড প্রোটিন টেস্টে প্রকৃতপক্ষে সরাসরি প্রোটিন বের করা হয় না; নাইট্রোজেন কন্টেন্ট বের করা হয় এবং এই নাইট্রোজেন কন্টেন্টকে সূত্রের সাহায্যে ক্রুড প্রোটিনে হিসাব করা হয়। অন্যদিকে ট্রু-প্রোটিন বা একটুয়াল প্রোটিন বলতে শুধুমাত্র প্রোটিন সোর্স (NPN মানে ইউরিয়া, বাই-ইউরেটস, এমোনিয়া ইত্যাদি নাইট্রোজেন সোর্স বাদে) থেকে আগত সকল নাইট্রোজেন কন্টেন্টকে বুঝানো হয়। এর মানে এই দাঁড়ায় যে, ক্রুড প্রোটিন থেকে নন-প্রোটিন নাইট্রোজেনাস সাবস্ট্যান্স (NPN) বিয়োগ করলে যা থাকে সেটাই True Protein বা আসল/একচুয়াল প্রোটিন। এই বিশ্লেষণ থেকে বলা যায় যে, “সকল True Protein ই Crude Protein; কিন্তু সকল Crude Protein মানেই True Protein নয়!” কথা না বাড়িয়ে আসল টেস্টে চলে যাওয়া যাক।

ল্যাব টেস্টক্রুড প্রোটিন

প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও কেমিক্যালঃ

  • স্যাম্পল
  • ব্লেন্ডার মেশিন
  • এনালাইজ্যিক্যাল ব্যালেন্স
  • জেলডাল ফ্লাস্ক
  • ডাইজেশন ও ডিস্টিলেশন এপারেটাস (প্রোটিন মেশিন)
  • কনিক্যাল ফ্ল্যাক্স
  • পিপেট
  • টাইট্রেশন এপারেটাস (ব্যুরেট ও স্ট্যান্ড)

কেমিক্যালঃ

  • ক্যাটালিস্ট (কপার সালফেট ও পটাশিয়াম সালফেট) – ৬ গ্রাম ( ১ গ্রাম কপার সালফেট + ৫ গ্রাম পটাশিয়াম সালফেট )
  • সালফিউরিক এসিড – ১৫ মিলি
  • সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ (৪০%)
  • হাইড্রোক্লোরিক এসিড দ্রবণ (0.1 Normal)
  • বোরিক এসিড সল্যুশন

দ্রবণ প্রস্তুতিঃ

  • ৪০% সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ প্রস্তুতঃ  ১ লিটার ডিস্টিল ওয়াটারে ৪০০ গ্রাম সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ভালভাবে মিশিয়ে ৪০% সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ তৈরি করতে হবে।
  • বোরিক এসিড সল্যুশনঃ ১ লিটার ডিস্টিল ওয়াটারে ৪০ গ্রাম বোরিক এসিড যোগ কোড়ে ভালোভাবে মিশাতে হবে। বোরিক এসিড মিশে গেলে এবার এই সল্যুশনের মধ্যে ১০ মিলি 0.1% মিথাইল রেড সল্যুশন এবং ৭ মিলি 0.1% ব্রোমো ক্রিসল গ্রীন সল্যুশন যোগ করে ভালকরে মিশিয়ে সল্যুশন তৈরি করতে হবে।
  • 0.1 N হাইড্রোক্লোরিক এসিড দ্রবণ প্রস্তুতিঃ ১ লিটার ডিস্টিল ওয়াটারে ৮.৩ মিলি ৩৭%  হাইড্রোক্লোরিক এসিড দ্রবণ ভালভাবে মিশিয়ে 0.1 N হাইড্রোক্লোরিক এসিড দ্রবণ তৈরি করতে হবে। এবং তৈরিকৃত দ্রবণের স্ট্যান্ডার্ড মান বের করে নিতে হবে।

0.1 N হাইড্রোক্লোরিক এসিড দ্রবণের স্ট্যান্ডার্ড মান নির্ণয় পদ্ধতিঃ

  • প্রথমে একটি ২৫০ মিলি বিকারে ০.৫৩০ গ্রাম সোডিয়াম কার্বোনেট ওজন করে নিতে হবে।
  • এরপরে উক্ত বিকারে ১০০ মিলি ডিস্টিল ওয়াটার যোগ ক্রে ভালভাবে মিশাতে হবে।
  • উক্ত সলুশন থেকে একটি পিপেট দিয়ে ১০ মিলি সল্যুশন অন্য একটি কনিক্যাল ফ্ল্যাক্সে নিয়ে তার সাথে ৩০ মিলি ডিস্টিল ওয়াটার যোগ করতে হবে।
  • এবার এই সল্যুশনে ৩-৪ ফোঁটা মিথাইল রেড সল্যুশন যোগ করলে দ্রবণ টি হলুদ কালার হবে।
  • এখন প্রাপ্ত এই হলুদ কালারের সল্যুশনকে পূর্বে তৈরিকৃত যে 0.1N হাইড্রোক্লোরিক এসিড দ্রবণের স্ট্যান্ডার্ড মান নির্ণয় করব, সেই 0.1N হাইড্রোক্লোরিক এসিড দ্রবণ দিয়ে টাইট্রেশন করতে হবে।
  • প্রাপ্ত টাইট্রেশন এর মান (ব্যুরেট রিডিং- BR) দিয়ে ১ সংখ্যাকে ভাগ করলেই 0.1N হাইড্রোক্লোরিক এসিড দ্রবণের স্ট্যান্ডার্ড মান পাওয়া যাবে।
  • সূত্রঃ 1/BR = HCl Standard value.

ক্রুড প্রোটিন টেস্ট পদ্ধতিঃ

  • প্রথমে যে স্যাম্পল টেস্ট করব তা ভালভাবে  ব্লেন্ডার মেশিনে গ্রাইন্ডিং করে . গ্রামের মত স্যাম্পল এনালাইজিক্যাল ব্যালেন্স দ্বারা পরিমাপ করে একটি জেলডাল ফ্লাস্কে নিতে হবে
  • এর সাথে গ্রাম ইন্ডিকেটর/ক্যাটালিস্ট ( ১ গ্রাম কপার সালফেট + ৫ গ্রাম পটাশিয়াম সালফেট ) নিতে হবে এগুলো উক্ত জেলডাল ফ্লাস্কে নিয়ে ১৫ মিলি সালফিউরিক এসিড মিশিয়ে ২ – ২.৫ ঘন্টা পর্যন্ত ডাইজেস্ট রুম হিটারে ডাইজেস্ট করতে হবে। এসময় দ্রবণের রঙ সবুজ হয়ে যাবে।
  • তারপর ৩০ মিনিট ঠান্ডা করতে হবে এরপরে ডাইজেস্টকৃত স্যাম্পলসহ জেলডাল ফ্লাস্কে ১০০ মিলি ডিস্টিল ওয়াটার মিশাতে হবে এবং মিশ্রণ টি আবার গরম হবে। এবং এটা আবারো ৩০ মিনিট রেখে দিতে হবে ঠান্ডা হওয়ার জন্য।
  • ঠান্ডা হলে ৭৫ মিলি সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ দিয়ে ভালভাবে মিশিয়ে ডিস্টিলেশন পয়েন্টের হিটারে সেট করতে হবে 
  • ডিস্টিলেশন পয়েন্টের অপর প্রান্তে একটি কনিক্যাল ফ্ল্যাক্সে ২৫ মিলি বোরিক এসিড দ্রবণ নিয়ে সেট করে মুখ বন্ধ করে দিতে হবে এবং এখানে ২ – ২.৫ ঘন্টা হিট দিতে হবে।
  • কনিক্যাল ফ্লাস্কের দ্রবণের পরিমাণ ১০০ – ১৫০ মিলির কাছাকাছি এলে মেশিন বন্ধ করতে হবে। এসময় কনিক্যাল ফ্লাস্কের দ্রবণের রঙ গোলাপি থেকে সবুজ হবে।
  • ডিস্টিলেশন হওয়ার পর ১০ মিনিট রেখে দিতে হবে
  • তারপর কনিক্যাল ফ্ল্যাক্সে ব্যুরেটে হাইড্রোক্লোরিক এসিড দ্বারা টাইট্রেশন করতে হবে এবং সূত্রের সাহায্যে ক্রুড প্রোটিন বের করা হয়-
  • সূত্রঃ (Burate Reading X 1.4 X HCl Standard X 6.25)/ Sample wt.

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here