Dr. Srabon Hasan Sajal
Dr. Srabon Hasan Sajal

NPN Test (Non-Protein Nitrogen)  টেস্ট করার পদ্ধতি || ফিড মিল ল্যাব সমাচার – পর্ব  ২০

প্রিয় পাঠক, ফিড মিলের কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাবরেটরিতে অত্যন্ত একটি গুরুত্বপুর্ণ টেস্ট হচ্ছে – NPN Test (Non-Protein Nitrogen) – টেস্ট করার পদ্ধতি

NPN Test (Non-Protein Nitrogen) – কি?

নন-প্রোটিন নাইট্রোজেন বা NPN  হচ্ছে মন কিছু উপাদান যা মূলত প্রোটিন নয়; কিন্তু ক্রুড প্রোটিন পরিমাপ করার সময় এ সকল Non-Protein Nitrogen গুলোকে আমলে নিয়েই ক্রুড প্রোটিন বের করা হয়। কেননা, সরাসরি প্রোটিন কন্টেন্ট বের করা হয় না বরং নাইট্রোজেনের পরিমাণ বের করে সেই পরিমানকে কনভারসন ফ্যাক্টর দিয়ে গুন করে ক্রুড প্রোটিন বের করতে হয়। এসকল Non-Protein Nitrogen এর মধ্যে ইউরিয়া, বাই-ইউরেটস, এমোনিয়া ইত্যাদি নাইট্রোজেন সোর্স, যেগুলা মূলত আসল প্রোটিন নয়।

যেহেতু Non-Protein Nitrogen সত্যিকার প্রোটিন নয় কিন্তু নাইট্রোজেন হিসেবে ক্রুড প্রোটিন হিসেবে থাকে, সেহেতু Non-Protein Nitrogen বের করতে হলে প্রথমেই আমাদের Total Nitrogen এর পরিমাণ বের করে নিতে হবে।

Total Nitrogen এর পরিমাণ বের করি আমরা ক্রুড প্রোটিন টেস্ট বা Crude Protein (CP) Test করার সময়। কাজেই আমাদের প্রথমে ক্রুড প্রোটিন টেস্ট বা Crude Protein (CP) Test এর ফর্মুলা অনুযায়ী Total Nitrogen এবং Residual Nitrogen এর পরিমাণ বের করে নিতে হবে।

তো চলুন এবার জেনে নিই কিভাবে ল্যাবরেটরিতে এই NPN Test (Non-Protein Nitrogen) – করার পদ্ধতি

টেস্ট টি আমরা ২ টি ধাপে করব।

১। Total Nitrogen এর পরিমাণ বের করব

২। Residual Nitrogen এর পরিমাণ বের করব।

ল্যাব টেস্টTotal Nitrogen  বের করার পদ্ধতি (ক্রুড প্রোটিন টেস্ট বা Crude Protein (CP) Test এর মত)

প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও কেমিক্যালঃ

  • স্যাম্পল
  • ব্লেন্ডার মেশিন
  • এনালাইজ্যিক্যাল ব্যালেন্স
  • জেলডাল ফ্লাস্ক
  • ডাইজেশন ও ডিস্টিলেশন এপারেটাস (প্রোটিন মেশিন)
  • কনিক্যাল ফ্ল্যাক্স
  • পিপেট
  • টাইট্রেশন এপারেটাস (ব্যুরেট ও স্ট্যান্ড)
  • ফিল্টার পেপার

কেমিক্যালঃ

  • ক্যাটালিস্ট (কপার সালফেট ও পটাশিয়াম সালফেট) – ৬ গ্রাম ( ১ গ্রাম কপার সালফেট + ৫ গ্রাম পটাশিয়াম সালফেট )
  • সালফিউরিক এসিড – ১৫ মিলি
  • সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ (৪০%)
  • হাইড্রোক্লোরিক এসিড দ্রবণ (0.1 Normal)
  • বোরিক এসিড সল্যুশন
  • 10% ট্রাইক্লোরো-এসিটিক এসিড (10% Trichloroacetic Acid – TCA )

দ্রবণ প্রস্তুতিঃ

  • ৪০% সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ প্রস্তুতঃ  ১ লিটার ডিস্টিল ওয়াটারে ৪০০ গ্রাম সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ভালভাবে মিশিয়ে ৪০% সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ তৈরি করতে হবে।
  • বোরিক এসিড সল্যুশনঃ ১ লিটার ডিস্টিল ওয়াটারে ৪০ গ্রাম বোরিক এসিড যোগ কোড়ে ভালোভাবে মিশাতে হবে। বোরিক এসিড মিশে গেলে এবার এই সল্যুশনের মধ্যে ১০ মিলি 0.1% মিথাইল রেড সল্যুশন এবং ৭ মিলি 0.1% ব্রোমো ক্রিসল গ্রীন সল্যুশন যোগ করে ভালকরে মিশিয়ে সল্যুশন তৈরি করতে হবে।
  • 0.1 N হাইড্রোক্লোরিক এসিড দ্রবণ প্রস্তুতিঃ ১ লিটার ডিস্টিল ওয়াটারে ৮.৩ মিলি ৩৭%  হাইড্রোক্লোরিক এসিড দ্রবণ ভালভাবে মিশিয়ে 0.1 N হাইড্রোক্লোরিক এসিড দ্রবণ তৈরি করতে হবে। এবং তৈরিকৃত দ্রবণের স্ট্যান্ডার্ড মান বের করে নিতে হবে।
  • ১০% ট্রাইক্লোরো-এসিটিক এসিড সল্যুশনঃ ১০০ মিলি ডিস্টিল ওয়াটারে ১০ গ্রাম ট্রাইক্লোরো-এসিটিক এসিড বা Trichloroacetic Acid মিশিয়ে দ্রবণ তৈরি করতে হবে।

0.1 N হাইড্রোক্লোরিক এসিড দ্রবণের স্ট্যান্ডার্ড মান নির্ণয় পদ্ধতিঃ

  • প্রথমে একটি ২৫০ মিলি বিকারে ০.৫৩০ গ্রাম সোডিয়াম কার্বোনেট ওজন করে নিতে হবে।
  • এরপরে উক্ত বিকারে ১০০ মিলি ডিস্টিল ওয়াটার যোগ ক্রে ভালভাবে মিশাতে হবে।
  • উক্ত সলুশন থেকে একটি পিপেট দিয়ে ১০ মিলি সল্যুশন অন্য একটি কনিক্যাল ফ্ল্যাক্সে নিয়ে তার সাথে ৩০ মিলি ডিস্টিল ওয়াটার যোগ করতে হবে।
  • এবার এই সল্যুশনে ৩-৪ ফোঁটা মিথাইল রেড সল্যুশন যোগ করলে দ্রবণ টি হলুদ কালার হবে।
  • এখন প্রাপ্ত এই হলুদ কালারের সল্যুশনকে পূর্বে তৈরিকৃত যে 0.1N হাইড্রোক্লোরিক এসিড দ্রবণের স্ট্যান্ডার্ড মান নির্ণয় করব, সেই 0.1N হাইড্রোক্লোরিক এসিড দ্রবণ দিয়ে টাইট্রেশন করতে হবে।
  • প্রাপ্ত টাইট্রেশন এর মান (ব্যুরেট রিডিং- BR) দিয়ে ১ সংখ্যাকে ভাগ করলেই 0.1N হাইড্রোক্লোরিক এসিড দ্রবণের স্ট্যান্ডার্ড মান পাওয়া যাবে।
  • সূত্রঃ 1/BR = HCl Standard value.

Total Nitrogen  বের করার পদ্ধতিঃ

  • প্রথমে যে স্যাম্পল টেস্ট করব তা ভালভাবে  ব্লেন্ডার মেশিনে গ্রাইন্ডিং করে . গ্রামের মত স্যাম্পল এনালাইজিক্যাল ব্যালেন্স দ্বারা পরিমাপ করে একটি জেলডাল ফ্লাস্কে নিতে হবে
  • এর সাথে গ্রাম ইন্ডিকেটর/ক্যাটালিস্ট ( ১ গ্রাম কপার সালফেট + ৫ গ্রাম পটাশিয়াম সালফেট ) নিতে হবে এগুলো উক্ত জেলডাল ফ্লাস্কে নিয়ে ১৫ মিলি সালফিউরিক এসিড মিশিয়ে ২ – ২.৫ ঘন্টা পর্যন্ত ডাইজেস্ট রুম হিটারে ডাইজেস্ট করতে হবে। এসময় দ্রবণের রঙ সবুজ হয়ে যাবে।
  • তারপর ৩০ মিনিট ঠান্ডা করতে হবে এরপরে ডাইজেস্টকৃত স্যাম্পলসহ জেলডাল ফ্লাস্কে ১০০ মিলি ডিস্টিল ওয়াটার মিশাতে হবে এবং মিশ্রণ টি আবার গরম হবে। এবং এটা আবারো ৩০ মিনিট রেখে দিতে হবে ঠান্ডা হওয়ার জন্য।
  • ঠান্ডা হলে ৭৫ মিলি সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ দিয়ে ভালভাবে মিশিয়ে ডিস্টিলেশন পয়েন্টের হিটারে সেট করতে হবে 
  • ডিস্টিলেশন পয়েন্টের অপর প্রান্তে একটি কনিক্যাল ফ্ল্যাক্সে ২৫ মিলি বোরিক এসিড দ্রবণ নিয়ে সেট করে মুখ বন্ধ করে দিতে হবে এবং এখানে ২ – ২.৫ ঘন্টা হিট দিতে হবে।
  • কনিক্যাল ফ্লাস্কের দ্রবণের পরিমাণ ১০০ – ১৫০ মিলির কাছাকাছি এলে মেশিন বন্ধ করতে হবে। এসময় কনিক্যাল ফ্লাস্কের দ্রবণের রঙ গোলাপি থেকে সবুজ হবে।
  • ডিস্টিলেশন হওয়ার পর ১০ মিনিট রেখে দিতে হবে
  • তারপর কনিক্যাল ফ্ল্যাক্সে ব্যুরেটে হাইড্রোক্লোরিক এসিড দ্বারা টাইট্রেশন করে ব্যুরেট রিডিং নিয়ে নিচের সূত্রের সাহায্যে Total Nitrogen  বের করতে হবে।

সূত্রঃ  Total Nitrogen = (Burate Reading X 1.4 X HCl Standard) / (Sample weight)

Residual Nitrogen বের করার পদ্ধতিঃ

প্রথম ধাপঃ

  • প্রথমে যে স্যাম্পল টেস্ট করব তা ভালভাবে  ব্লেন্ডার মেশিনে গ্রাইন্ডিং করে Total Nitrogen বের করার সময় যে পরিমাণ স্যাম্পল নিয়েছিলাম (০.৫ গ্রাম) , ঠিক একই পরিমাণ স্যাম্পল এনালাইজিক্যাল ব্যালেন্স দ্বারা পরিমাপ করে একটি বিকারে নিতে হবে।
  • এরপরে ৫০ মিলি ডিস্টিল ওয়াটার দিয়ে ভালভাবে মিশাতে হবে এবং ৩০ মিনিট দিতে হবে।
  • এবার বিকারের মধ্যে ১০ মিলি 10% ট্রাইক্লোরো-এসিটিক এসিড (10% Trichloroacetic Acid – TCA ) মিশাতে হবে এবং ২০-৩০ মিনিট রেখে দিতে হবে।
  • এরপরে ১ নং ফিল্টার পেপার দিয়ে এই মিশ্রন ফিলট্রেশন করতে হবে। ফিল্ট্রেশনের শেষে ২ বার 10% ট্রাইক্লোরো-এসিটিক এসিড (10% Trichloroacetic Acid – TCA ) দিয়ে ওয়াশ করতে হবে। ফিল্টার পেপার সংগ্রহ করে নিতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপঃ

  • এখন এই ফিল্টার পেপারকে ভাজ করে জেলডাল ফ্লাস্কে দিতে হবে।
  • এরপরে জেলডাল ফ্লাস্কে গ্রাম ইন্ডিকেটর/ক্যাটালিস্ট ( ১ গ্রাম কপার সালফেট + ৫ গ্রাম পটাশিয়াম সালফেট ) নিতে হবে এগুলো উক্ত জেলডাল ফ্লাস্কে নিয়ে ১৫ মিলি সালফিউরিক এসিড মিশিয়ে ২ – ২.৫ ঘন্টা পর্যন্ত ডাইজেস্ট রুম হিটারে ডাইজেস্ট করতে হবে। এসময় দ্রবণের রঙ সবুজ হয়ে যাবে।
  • তারপর ৩০ মিনিট ঠান্ডা করতে হবে এরপরে ডাইজেস্টকৃত স্যাম্পলসহ জেলডাল ফ্লাস্কে ১০০ মিলি ডিস্টিল ওয়াটার মিশাতে হবে এবং মিশ্রণ টি আবার গরম হবে। এবং এটা আবারো ৩০ মিনিট রেখে দিতে হবে ঠান্ডা হওয়ার জন্য।
  • ঠান্ডা হলে ৭৫ মিলি সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ দিয়ে ভালভাবে মিশিয়ে ডিস্টিলেশন পয়েন্টের হিটারে সেট করতে হবে 
  • ডিস্টিলেশন পয়েন্টের অপর প্রান্তে একটি কনিক্যাল ফ্ল্যাক্সে ২৫ মিলি বোরিক এসিড দ্রবণ নিয়ে সেট করে মুখ বন্ধ করে দিতে হবে এবং এখানে ২ – ২.৫ ঘন্টা হিট দিতে হবে।
  • কনিক্যাল ফ্লাস্কের দ্রবণের পরিমাণ ১০০ – ১৫০ মিলির কাছাকাছি এলে মেশিন বন্ধ করতে হবে। এসময় কনিক্যাল ফ্লাস্কের দ্রবণের রঙ গোলাপি থেকে সবুজ হবে।
  • ডিস্টিলেশন হওয়ার পর ১০ মিনিট রেখে দিতে হবে
  • তারপর কনিক্যাল ফ্ল্যাক্সে ব্যুরেটে হাইড্রোক্লোরিক এসিড দ্বারা টাইট্রেশন করে ব্যুরেট রিডিং নিয়ে নিচের সূত্রের সাহায্যে Residual Nitrogen  বের করতে হবে।

সূত্রঃ  Residual Nitrogen = (Burate Reading X 1.4 X HCl Standard) / (Sample weight)

NPN বের করার সূত্রঃ

NPN = (Total Nitrogen – Residual Nitrogen) %

Copyright: Dr. Srabon Hasan Sajal

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here